বদলে ফেলুন নিজেকে

ছয়টি মিরাকেল মর্নিং অভ্যাস,যা আপনার জীবণকে মন্তের

♣প্রথম অভ্যাস S. মানে Silence , যাকে বলে নিরবতাঃ
সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমরা চিন্তা করতে শুরু করে দেই,যে ইশ আজকে ঘুম থেকে খুব দেড়ি করে ওঠা হয়ে গেল, কি করে সব কাজ শেষ করব। এধরনের চিন্ত করা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।
প্রতিদিন দিনের শুরু করুন প্রার্থনা অথবা মেডিটেশন করে। দিনের শুরুটা ক্রুন ভোর চারটা থেকে,তাহলে দেখবেন অনেক সময় পাবেন কাজ করার অযথা কোন চিন্তা ছারাই এক নিমেষেই আপনার সব কাজ খুব সুন্দর ভাবে সম্পর্ন্ন হচ্ছে।
এ ৬ অভ্যাস প্রতিদিন অনুশীলন করার মধ্যে মধ্যে দিয়ে আপনার ভেতর পজিটিভ এনার্জি লেভেল বাড়বে এবং সব চিন্তার করবেন পজিটিভলি। এ ভাবে দিনে দিনে আপনে হয়ে উঠবেন দুনিয়ার সফল ব্যাক্তিত্ব ।
রিলাক্স ব্রেইন নিয়েই সকালে ঘুম থেকে উঠতে হয়, এতে করে দিনের শুরুটা ভাল হয়। তাই মেডিটেশন করে দিনের শুরুটা করুন। পাখির কলতান, পাতার মর্মর ধ্বনি, নদীর স্রতের শব্দ ইত্যাদি সব মিলিয়ে ভোরে আপনার মনকে মেডিটেশন এর সাথে আর পবিত্র করে দিবে। দেখবেন এক মুহূর্তের মধ্যেই আপনার মন যাবে হারিয়ে।
♠দ্বিতীয় অভ্যাস A মানে Affirmation , যাকে বলে নিজে নিজের সাথে কথা বলাঃ
নিজের সাথে পজিটিভলি কথা বলা, যা খুব পাওয়ারফুল হয়।অনেক বিশ্ব বিখ্যত ব্যাক্তিরা এ কাজ করে থকেন।প্রতিদিন সকালে উঠে নিজেকে নিজে বলুন , ‘আমি আছি। আমি ভাল থাকব’।দৃঢ় বিশ্বাস এবং ইচ্ছাশক্তির ওপর করে বলা এ কথাগুলো আপনাকে নতুন সাহস যোগাতে সাহায্য করবে। এছাড়া ‘আমার কপালটা খারাপ’ বা আমার দ্বারা কিছু হবেনা’এ জাতীয় মন্তব্য করা বন্ধ করে দিন। বরং ‘এ কাজটা শক্ত কিন্তু আমি পারব’ এ চিন্তাটাই মনে গেঁথে নিন।বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।সেলফ ইমপ্রুভমেন্ট বা পার্সোনালিটি ডেভেলপমেন্ট বই ও দৈনন্দিন জীবনের জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করতে পারে।নিজের লক্ষ্য ঠিক করুন।
নীজের জীবনের লক্ষ্যগুলি লিখুন আপনার নোট বুকে, আপনে আপনার জীবনে নিজেকে কিভাবে দেখতে চান, আর আপনার জীবনে এ পরিবর্তন কেন চাইচেন, আর পরিবর্তন আনার জন্য আপনে কি কি কঠিন কাজ করতে প্রস্তুুত এবং প্রতিজ্ঞা করুন আপনে অনেক কঠিন কাজ করতে প্রস্তুুত । এসব কথা ছোট নোট বুকে লিখে প্রতিদিন ক্রালে পড়ুন।

♦ visualization আর Affirmation একে অপরের পরিপূরক। এরা যমজ ভাইয়ের মতো মনে হলেও কিন্তু দুটা দু রকম বিষয়। visualization এমন একটা ব্যাপার মনে মধ্যে একটা প্রতিচ্ছবি, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপনার অর্জনটা কেমন হবে তা দেখা।সহজ ভাবে বিষয়টি মনে করেন যে, visualizationমানে ভিডিও আর Affirmation মানে অডিও।
আপনে Affirmation এ ছোট নোট বুকে যা যা লিখেছেন তা তা অর্জন করার জন্য আপনাকে কিভাবে শ্রম দিতে হবে, তার একটা প্রতিচ্ছবি মনে মনে visualized করুন।
যেমন আপনি গিটার বাজানো শিখবেন, চিন্তা করুন গিটার এর তার গুলি স্পর্শ করছেন আর আপনার প্রিয় গান গিটারে বাজাতে।আপনি যদি কোন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশান তৈরী করছেন তো, চিন্তা করেন কোডিং ইন্টারফেস এর ব্যাপারে এবং নিজেকে কোড টাইপ করতে চিন্তা করা। visualization আপনাকে সাহায্য সকালের রুটিনের পর সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ আগে করতে হবে। Affirmation এবং visualization প্রতিদিনের রুটিনের পর আপনার চিন্তা পরিবর্তন হবে।
♥E মানে Exercise যা অনুশীলনঃ প্রতিদিন Exercise করা আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী। যাকে বলে শরীরিক ব্যায়াম।যেমনঃ সকালে বা বিকালে হাঁটা-চলা করা,মেডিটেশন ও প্রাণায়াম করা,ঘরের কাজ করা ইত্যাদি অনুশীলন এর মধ্যে পরে।
♣R মানে পড়াঃ যা ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য সবচেয়ে ভাল অভ্যাস।প্রতিদিন সকালে আপনি ১০ পৃষ্ঠা করে পরতে পারেন, যা বছরে ৩৬৫০পৃষ্ঠা হবে।
  ♦S মানে Scribing/Writingঃএতে কিছু সময় দেন আপনি কি চিন্তা করছেন এবং কি অনুভূতি করছেন তা লেখার জন্য।এতে করে আপনে সবসময় নতুন কিছু শিখতে পারবেন।ছোট এ নোটকে সকালের পাতাও বলা হয়।এর দুটো ভাগ আছে। একটি এ পর্যন্ত আপনে কি কি শিখলেন এবং কি কি অর্জন করলেন।দ্বিতীয় পাঠ নিউ কমিটমেন্ট,আর কি কি শিখতে হবে,কি ভাবে নিজেকে আরও ডেভেলপ করা যায়,নিজের দুর্বল জায়গা গুলিকে খুঁজে বের করে সেটাকে উন্নত করা এবং আরও নতুন কি কি করতে হবে তা খুঁজে পাওয়া।
নিজের অর্জনের জন্য নিজে নিজের প্রশংসা করুন এবং নতুন কিছু শিখার জন্য সবসময় উৎসুক থাকুন।
পরিশেষে বলা যায় যে, ৬ অভ্যাস যা আপনের জীবনকে পরিবর্তন করতে সাহায্য করবে, তা রুটিন মাফিক করার জন্য আপনাকে অবশ্যই খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতে হবে এবং সকাল ৮ টার মধ্যেই আপনাকে রুটিনের সব কাজ শেষ করতে হবে। মোবাইলে আর্লাম দিয়ে রাখুন।কিন্তু মোবাইলে আর্লাম দিয়ে, আর্লাম বন্ধ করে ঘুমিয়ে পরলে এ রুটিন কাজ করবেনা । এরকম বন্ধ করলে আপনাকে আরও ক্লান্ত অনুভব করাবে, আপনে দিনের শুরু ঠিকভাবে এবং সময়ের সাথে নিজেকে মিলাতে পারবেন না।
এক্ষেত্রে আপনে ৩০ দিনের টারর্গেট হাতে নিন,সাথে একজন দায়িত্বপূণ পাটনার খুঁজে নিন।আর দু’জনেই ৩০ দিনের টারর্গেট হাতে নিন এবং প্রতিজ্ঞা করুন এ চ্যালেঞ্জ সম্পূর্ণ করার। তারপর দেখুন কি হয় এ ৩০ দিনে।৩০ দিনকে ৩ স্টেপস এ ভাগ করেন, প্রথম ১০দিনের রুটিন আপনার জন্য খুব কঠিন হবে,প্রতিদিন আপনাকে প্রাণপণ চেষ্টা হারনা মানার।মাঝের ১০ দিন আপনার কাছে খুব একটা সমস্যার হবে না,একদম নরমাল মনে হবে।শেষের ১০ দিন আপনার কাছে খুব মজার লাগবে এবং এটা প্রতিদিন আপনে করতে চাইবেন।তো চলুন পাটনার খুঁজা শুরু করে দিন আর নতুন বছর ১৪২৪ সালে বৈশাখে পালটে ফেলুন নিজের জীবনকে। আসছে দিনগুলিতে আর ও রঙ্গিন করে ফেলুন নিজেকে।
২১শে জুনের আগেই নিজেকে পুর-পুরি প্রস্তুত করুন ইয়গা –আসনের উপযোগী করে। মেডিটেশন করে মনকে তৈরী করুন পরম পবিত্রময়। নিজের ব্যক্তি সত্ত্বাকে বিকশিত করুন। এ ছয়টি অভ্যাসের দ্বারা আপনে আপনার মনকে পুরপুরি বসে আনতে পারবেন।প্রথম প্রথম এ অভ্যাস গুলিকে এমন বিরক্তিকর মনে হবে যেটা বলে বুঝানো যাবে না। কিন্তু এটিকে অনুশীলন করতে করতে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যাবে, তখন এটা এক দিন যদি না করেন তাহলে আপনে নিজে থেকে অভ্যাস গুলি বার বার করবেন। তাই খুব দেড়ি হয়ে যাবার আগেই আজ থেকেই শুরু করুন, সকালের ছয় মিরাকেল অভ্যাস।

The following two tabs change content below.
আসুন সবাই মিলে ইয়গা-মেডিটেশন করি,মন থেকে অশুভ সব মুছে ফেলে এ সুন্দর পৃথিবীটাকে ভালবাসাই আরও সুন্দর করে তুলি
About ইয়গা সঞ্জিতা(Yoga Sanjita)

আসুন সবাই মিলে ইয়গা-মেডিটেশন করি,মন থেকে অশুভ সব মুছে ফেলে এ সুন্দর পৃথিবীটাকে ভালবাসাই আরও সুন্দর করে তুলি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

* Copy This Password *

* Type Or Paste Password Here *

122 Spam Comments Blocked so far by Spam Free Wordpress