আন্তর্জাতিক ইয়গা দিবস

আসুন আন্তর্জাতিক ইয়গা দিবসে ‘ইয়গা’ বা ‘যোগ’ কি তা একটু ভালভাবে দেখি।
ইয়গা’ বা ‘যোগ’ হল জীবন পথে চলার এক পদ্ধতির নাম।
সংস্কৃত শব্দ ‘যুজ’ থেকে আহরিত যোগ এর অর্থ হল ব্যক্তি সত্তার সঙ্গে বিশ্ব সত্তার মিলন।যোগের জ্ঞান ৫০০০ বছরের পুরানো ভারতীয় জ্ঞান।যদিও অনেকেই মনে করেন যোগ মানে শুধুই শারীরিক কসরৎ, যেখানে জটিল পদ্ধতিতে শরীরটাকে মুচড়িয়ে, ঘুরিয়ে, টেনে ফেলতে হয় এবং কিছু কঠিন শ্বাসের ক্রিয়া করা হয়ে থাকে। এসব কিছু আসলে মানুষের মন ও আত্মার ভেতরে যে অনন্ত শক্তি ও সম্ভাবনা আছে, সেই সম্ভাবনাকে বিকশিত করে তোলবার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে হালকা করে, ছোট করে দেখা।
এই যোগবিজ্ঞানের মধ্যেই জীবনকে পূর্ণরূপে করে অতিবাহিত করবার মন্ত্র, উপভোগ করবার সারকথা নিহিত আছে। এই যোগ বিজ্ঞানের মধ্যে আছে জ্ঞানযোগ বা জ্ঞানের পথ, ভক্তিযোগ বা পরম শান্তিময় ভক্তির পথ, কর্মযোগ বা পরম আনন্দময় কর্মের পথ এবং রাজযোগ বা মন নিয়ন্ত্রণকারী এক সাধনার পথ। রাজ যোগ আবার ৮ টি ভাগে বিভক্ত। এই নানাবিধ পদ্ধতির সমতা রক্ষা করে, ঐক্যসাধন করে যোগাসন অভ্যাস করাই রাজযোগ পদ্ধতির মূলকথা বা সারকথা।

যিনি তাঁর মনকে জয় করেছেন ,তাঁর মন তাঁর পরম বন্ধু,কিন্তু যিনি তা করতে অক্ষম, তাঁর মন পরম শত্রু। যোগাসন অনুশীলন করার উদ্দেশ্য হচ্ছে মনকে সংযত করা ,যার ফলে পারমার্থিক সাধনার পথে সে বন্ধুর মতো সাহায্য করতে পারে।মনঃসংজন না করে লোক দেখানো যোগাভ্যাস করলে কেবল সময়ের অপচয় হয়।তাই সুখী জীবনের একমাত্র মূল মন্ত্র হউক যোগাসন অনুশীলন।
যেমন জীনের একটা উদ্দেশ্য থাকে, আর উদ্দেশ্য না থাকলে নির্দিষ্ট লক্ষে পৌঁছানো যায় না।তাই প্রতি দিনের একটা নির্দিষ্ট রুটিন থাকে।রুটিন করা যত সহজ রুটিন অনুসরণ করা তার চেয়েও অনেক কঠিন কাজ।তাই সবার আগে আমদের নিজেদের মনকে জয় করতে হবে।আর জয় করার এক মাত্র পথ যোগাসন ও প্রাণায়াম অনুশীলন করার মাধ্যমে।
রোগ প্রতিরোধে যোগব্যায়ামঃ
আমরা সবাই জানি ২১জুন আন্তর্জাতিক ইয়োগা দিবস। ইয়োগা বা যোগব্যায়াম রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণই শুধু করে না রোগ নিরাময়ে গুরুতবপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জাতিসংঘ ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক ইয়োগা দিবস হিসাবে ঘোষণা করেছে এবং ১৯০টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও এ দিবসটি পালিত হয়।
আমি আমার পেটের মেদ নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলাম, কোন কিছু করেও পেরে উঠছিলাম না,তখন আমার ইয়োগা দিবসে ইয়োগা বা যোগব্যায়াম এর কথা মনে হল, যেই কথা সেই কাজ। এখন আমার পেটের মেদ যে কমছে তার প্রমান আমি পাচ্ছি। তাই আমি বলছি যে,যোগব্যায়ামকে জীবনযাপনের অংশ করে তুললে দেহ-মনের সুস্থতা ও শান্তি নিশ্চিত হবে।ওজন কমাবে, শক্তিশালী নমনীয় শরীর, উজ্জ্বল ত্বক, শান্ত মন, ভালো স্বাস্থ্য ইত্যাদি যা কিছু আমরা পেতে চাই সবকিছুর চাবি আছে যোগাসনে।
আমাদের অনেক সুপরিচিত অধ্যাপক ডাঃ গোবিন্দ চন্দ্র দাস,তিনি ও যোগব্যায়াম করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন যে, “যোগব্যায়াম করার ফলে আমাদের শরীরের অনেকরকম শারীরিক সমস্যা যথাঃ উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস,করনারি আর্টারি ব্লকেজ ইত্যাদি রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব এবং শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিকভাবে সুস্থ জীবন কাটানো সম্ভব।
যোগ অ্যালপ্যাথির মতো কোন লাক্ষণিক চিকিতসা নয়,বরং রোগের মূল কারণকে নির্মূল করে আমাদের ভিতর থেকে সুস্থ করে তলার এক উপায়। নিয়মিত জগভ্যাসের অসংখ্য উপকারিতার মধ্যে কয়েকটি নিয়ে আলচনা করা যাক-
ফিটনেসঃ শারীরিকভাবে সুস্থ মানেই কিন্তু পুরোপুরি ফিট থাকা নয়।তখনই পুরোপুরি ফিট যখন মানসিক, আধ্যাত্মিক, শারীরিক ও সামাজিকভাবে সুস্থ থাকবেন।
স্টেস বা চাপ কমায়ঃ সারা দিনের কাজের চাপে আমরা সবাই কমবেশি কাহিল হয়ে পড়ি। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার প্র ক্লান্ত লাগে।অনেক সময়ই মেজাজ খারাপ থাকে।আর কারণ স্টেস, শারীরিক এবং মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ি। যোগাসন এর থেকে মুক্তি দেয়।
মানসিক শান্তি কে না চায়? নিয়ম করে একটু যোগাসন, ধ্যান, প্রাণায়াম, নিউরবিক ইত্যাদির মাধ্যমে মনঃসংযোগ এবং মানসিক শান্তি সম্ভব।
প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়ঃ নিয়মিত যোগাভ্যাস আমাদের শারীরের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
অ্যানার্জি বাড়ায়ঃ
দিন শেষে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ি।বাড়ি ফেরার পর অ্যানার্জি অবশিষ্ট থাকে না। মাত্র কয়েক মিনিটের যোগাভ্যাস কিন্তু সারা দিনের পরে ও অ্যানার্জি জোগান দেবে।
সুস্থ সুন্দর সম্পর্কঃ
যোগাভ্যাস আমাদের কাছের মানুষ অর্থাৎ বাবা, বা, বন্ধু, স্বামী, স্ত্রী, আত্মীয়, পরিজন অফিস কলিগ সবার সঙ্গেই সম্পর্ক ভালো রাখতে সাহায্য করে।যোগাভ্যাস একটি নিয়মিত অভ্যাস। এখন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যোগব্যামের চর্চাকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এছাড়া পাশাপাশি নানারকম
যোগাসনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব। যেমনঃ উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা, অ্যাজমা, বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য,মাইগ্রেন, দুশ্চিন্তা এবং অবসাদ ইত্যাদি। বিশেষ কয়েকটি যোগাসন (প্রাণায়াম,মেডিটেশ্ন,নিউরোবিক জিম ও আকুপ্রেসার) নিয়মিত অভ্যাসের মাধ্যমে এই ধরনের রোগগুলো থেকে সহজেই ডায়াবেটিস,উচ্চরক্তচাপ, উচ্চ কোলস্টেরল ও অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।
সুপ্ত প্রতিভাকে জাগান, আর সমস্যার সমাধান নিজের মাঋে খুজুনঃ শুধু পড়লেই হবে না, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যোগাসনের প্রয়োগ করতে হবে, আর তা করতে পারলেই আমার এ প্রতিবেদনটি জনকল্যাণে লাগবে,আর এটাই আমার ভালো লাগবে।আমার বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ যোগ আসন করে সুস্থ থাকবে এবং দেশ আরও অনেক এগিয়ে জাবে।তাই স্লোগান হউক “ সুস্থ দেহ, প্রশান্ত মন, কর্ম ব্যস্থ সুখী জীবন”।স্বাস্থ্য সকল সুখের মূল।আমরা প্রতিনিয়ত কোননা কোন সমস্যায় জর্জরিত হয়ে থাকি,আর তখন আমরা কি করি?সমাধান খুঁজি বাহিরে,কিন্তু বিপদে হাজার চেষ্টা করেও মাথাগরম হয়ে যায়, আর গরম মাথায় শুধু খারাপ কিছুই হবে,ভালকিছু নয়।এক্ষেত্রে আপনাকে বন্ধুর মতো সাহায্য করবে যোগাসনও মেডিটেশন। এটা করাতে আমাদের মাঋে self-control চলে আসে, এটা একদিনে আসবেনা তার জন্য আপনাকে নিয়মিত যোগব্যায়াম করার অভ্যাস করতে হবে।আমাদের মাঋে অনেক সুপ্ত প্রতিভা লুকায়িত অবস্থায় থাকে, নিয়মিত যোগব্যায়াম করার ফলে নিজেকে ভালভাবে চিনতে পারি,যাকে বলে self-realization,নিজের সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা। ঔষধ ছাড়ুন,আর চেষ্টা করুন যোগাসন নামক মহাঔষধটি দিয়ে সুস্থ থাকার,আমরা জানি যে প্রত্যেক ঔষধেই থাকে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া,এর কারণে শরীরে অন্য রোগের বাসা বাধে।যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন এর সাথে সাথে প্রতিদিন ভোরে আথবা সকালে ২০-৩০ মিঃ হাটুন,তারপর এক গ্লাস হালকা গরম জলে কয়েক ফোটা লেবু মিশিয়ে পান করুন এবং তার কিছুক্ষণ বাদে খালি পেটেই কয়েক গ্লাস জল পান করুন।তার প্র খানিকবাদে যোগাসন করুন,প্রথমে ১৫-৩০-৪৫-৬০মিঃ এভাবে পযায়ক্রমে সময় বারবে,আর যোগাসন করার সময় কিছু সর্তকতা অবশ্যই মেনে চলুন। এরফলে পেটের ও শরীরের মেদ কমতে সাহায্য করবে।
আজ ইয়গা দিবসে আমদের প্রতিপাদ্য হুক,ইয়গা করে নিজে সুস্থ থাকি এবং আন্যকে সুস্থ রাখি।ইয়গাকে আরও প্রসারিত করি ঘরে ঘরে।মেডিসিন আর ডাক্তার এর পেছনে আমাদের প্রতেয়কেরই বছর বছর অনেক টাকা ব্যয় করতে হয় বাধ্য হয়ে, এমন কি জমি ঘর বন্ধকী রেখে চিৎসার খরচ বহন করতে হয়।মেডিসিন কখন শেকর থেকে রোগ সারাতে পারে না,যা যোগাসন পারে।আমি বলছিনা যে,মেডিসিন আর ডাক্তার একে বারেই বাদ দিতে।ধীরে ধীরে যোগাসন অভ্যাসে পরিনত করতে হবে,যাতে একটি দিন ও বাদ না পরে। ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন ,ধন্যবাদ।
The following two tabs change content below.
আসুন সবাই মিলে ইয়গা-মেডিটেশন করি,মন থেকে অশুভ সব মুছে ফেলে এ সুন্দর পৃথিবীটাকে ভালবাসাই আরও সুন্দর করে তুলি
About ইয়গা সঞ্জিতা(Yoga Sanjita)

আসুন সবাই মিলে ইয়গা-মেডিটেশন করি,মন থেকে অশুভ সব মুছে ফেলে এ সুন্দর পৃথিবীটাকে ভালবাসাই আরও সুন্দর করে তুলি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

* Copy This Password *

* Type Or Paste Password Here *

121 Spam Comments Blocked so far by Spam Free Wordpress