আকুপ্রেসার কি এবং কেন?

আকুপ্রেসার ও ইয়গা আসন একে ওপরের পরিপূরক, দুটোই সম্পর্ক যুক্ত। তাই আমাদের এবারের আলোচনা আকুপ্রেসার সম্পর্কিত।
আকুপ্রেসার শরীরের কিছু কিছু নির্দিষ্ট বিন্দুতে সরু সুচ ঢুকিয়ে রোগ চিকিৎসা পদ্ধতি। এটি মূলত একটি চিনা চিকিৎসা পদ্ধতি, যা প্রায় ২০০০ বছরের বেশি সময় ধরে চিন দেশে একটি চিকিৎসা কৌশল হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ল্যাটিন শব্দ ‘আকু’ মানে সুচ, ‘প্রেসার’ মানে ফোটানো। এই দুটি শব্দের মিলনেই শব্দটি আকুপ্রেসার তৈরি হয়। অর্থাৎ সুচ ফুটিয়েই আকুপ্রেসার করা হয়। সুচ ফুটিয়ে করা হয় বলে অনেকের ধারণা আকুপ্রেসার খুব যন্ত্রণাদায়ক চিকিৎসা। আকুপাংচারের সুচ এতটাই সরু ফোটাবার সময় মোটেই যন্ত্রণা হয় না।
আকুপ্রেসার চিকিৎসা পদ্ধতিঃ
এই আকুপ্রেসার চিকিৎসা পদ্ধতি এমনই একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যে, যাতে বিনা যন্ত্রের সাহায্যে এবং কোন পরীক্ষা না করেই রোগ নির্ধারণ করা ও রগের চিকিৎসা করা যায়। এ পদ্ধতিতে রোগের নিদান ও উপচার একই প্রেসার বিন্দু দ্বারা করা যায়।এই প্রেসার পয়েন্ট প্রত্যেকটি মানুষের হাত ও তালুতে পাওয়া যায়। প্রত্যেক ব্যাক্তির নিজের হাত ও পায়ে পাওয়া প্রেসার বিন্দুকে টিপে ধরে জানা যায় যে সেই ব্যাক্তির কই রোগ হয়েছে এবং তার চিকিৎসাও স্বয়ং রোগীই করতে পারে।
এই চিকিৎসা পদ্ধিতে দেহকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয় –ডান ও বাম।জে অঙ্গ দেহের বাঁদিকে স্তিত আছে, তার চিকিৎসার জন্য দুটি হাতের তালু এবং পায়ের তালুতে প্রেসার বিন্দু পাওয়া যায়।
চোখের রোগের জন্য দুটি হাতের প্রথম অর্থাৎ তর্জনী এবং দ্বিতীয় আঙুল অর্থাৎ মধ্যমার নীচে হাতের তালুর প্রেসার বিন্দুর উপর চাপ দিলে চোখের রোগ , যেমনঃ লাল হওয়া ,জল পাড়া, চোখের পাতায় চুলকানি এবং ছানি বিভিন্ন রোগের নিরাময় হয়।
কানের রোগের জন্য তৃতীয় অর্থাৎ অনামিকা এবং চতুর্থ আঙুিল অর্থাৎ কনিষ্ঠার নীচে হাতের তালুর ওপর চাপ দিলে কানে পুঁজ এবং কিমি. শোনা পর্যন্তও নিরাময় হয়।
আকুপ্রেসার দেবার সময়ঃ
সকালে খালি পেট চিকিৎসা করার উপযুক্ত সময়।আতে তাড়াতাড়ি ফল হয়। যদি সামান্য কিছু খাওয়া যায়, তাহলে চিকিৎসা খাবার এক ঘণ্টা বাদ করলে সুফল পাওয়া যায়। এ প্রকার চিকিৎসা দিনে দু’বার করতে হবে।চিকিৎসার ওষধ দু থেকে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত হওয়া চাই। এর মধ্যে চাপ প্রেসার বিন্দুর উপর ১০ সেকেন্ড পর্যন্ত দেওয়া যায় এবং পুনরায় ২-৩ সেকেন্ড পর্যন্ত চাপ দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
আকুপ্রেসারবিদ্যা মতে মানব শরীরের বারোটি চ্যানেল আছে। এই চ্যানেলগুলির উপরেই রয়েছে আকুপ্রেসার পয়েন্টগুলি। চিকিৎসার সময় কিছু ‘ডিস্টার্বড পয়েন্ট’ ও কিছু ‘লোকাল পয়েন্ট’-এর উপর সুচ ফোটানো হয়। আকুপ্রেসার করলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে তাই ব্যথা কমে যায় বলে ধারণা করা হয়। আকুপ্রেসারবিদ্যার প্রাচীন শাস্ত্রে অবশ্য অন্য ব্যাখ্যা রয়েছে। সেখানে বলা হয় আমাদের শরীরে ‘পজিটিভ’ ও ‘নেগেটিভ’ দু’রকম শক্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে ভারসাম্যের অভাব হলেই ব্যাধির সৃষ্টি হয়। আকুপ্রেসার করে তখন এ ভারসাম্য ফেরাতে হয়।
কারা আকুপ্রেসার চিকিৎসা নিতে পারে
ছয় মাস থেকে নিরানব্বই বছর, যে কোনও বয়েসের রোগী আকুপাংচারের যোগ্য। আকুপ্রেসার চিকিৎসাবিদরা বলেন, এ চিকিৎসায় শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এই চিকিৎসা, কৌশলের প্রয়োগ পদ্ধতি — অতি সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং কম খরচের কারণে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী একটি বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি হিসাবে সমাদৃত হচ্ছে। স্নায়ুর সমস্যা দূর করতে এই আকুপ্রেসার বেশি কার্যকর। পিঠেব্যাথা, কাঁধ জমে যাওয়া, ঘাড়ব্যথা ও কটিবাতের মতো পেশি-অস্থিগত রোগ, স্নায়ুঘটিত রোগ ইত্যাদি চিকিৎসার জন্য আকুপ্রেসার ব্যবহার হচ্ছে।
ভারতের আকুপ্রেসারকে বিকল্প চিকিৎসা হিসাবে গণ্য করা হয়। ব্যয়বহুল না হওয়ায় এই চিকিৎসা পদ্ধতির জনপ্রিয়তা রয়েছে। সাধারণ ভাবে নানা বেসরকারি উদ্যোগে এই চিকিৎসা হয়। এই বেসরকারি সংস্থাগুলিতে আকুপ্রেসার পদ্ধতিতে চিকিৎসা করারও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
এরকম আরও পোস্ট পেতে আমাদের সাইট এ ভিজিট করুন

The following two tabs change content below.
আসুন সবাই মিলে ইয়গা-মেডিটেশন করি,মন থেকে অশুভ সব মুছে ফেলে এ সুন্দর পৃথিবীটাকে ভালবাসাই আরও সুন্দর করে তুলি
About ইয়গা সঞ্জিতা(Yoga Sanjita)

আসুন সবাই মিলে ইয়গা-মেডিটেশন করি,মন থেকে অশুভ সব মুছে ফেলে এ সুন্দর পৃথিবীটাকে ভালবাসাই আরও সুন্দর করে তুলি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

* Copy This Password *

* Type Or Paste Password Here *

180 Spam Comments Blocked so far by Spam Free Wordpress