ইয়গা-মেডিটেশন সম্পর্কে জানা-অজানা

ইয়গা-মেডিটেশন করার ফলে আমাদের ব্যাক্তি সত্ত্বার বিকাশ ঘতে।আর ফলে মন থেকে কু প্রভাব ও কু চিন্তা চলে যায় আর মন হয় পবিত্র ও কোলস মুক্ত। ইয়গা-মেডিটেশন সূর্য দ্বয়ের আগে করলে শক্তি ও সৌন্দর্‍্য দুই পাওয়া যাবে এক সাথে।
ইয়গা অর্থাৎ প্রাণায়াম এবং মেডিটেশন অর্থাৎ ধ্যানাসন সাত দিনে সাত প্রাণায়াম এবং সাত ধ্যানাসন যা করার ফলে আপনে অন্যের চোখে হবেন আরও আকর্ষণীয়।জিম এ গিয়ে জিম করা আর ইয়গা-মেডিটেশন করা এক জিনিস মোটেও নয়,হ্যাঁ জিম করে কিছুটা হলে ও ফিট থাকা যায় তবে এটা পুরো দেহ ও মনের উপর ততটা প্রভাব ফেলতে পারে না যতটা ইয়গা-মেডিটেশন করে আমরা পাই।জিমে যাওয়া সবার হয়ে ওঠে না,কারণ এটা ব্যয় বহুল আর ঘরের অনেকটা জায়গা নিয়ে ফেলে জিম করার সরঞ্জাম দিয়ে।অনেকে বলে আগে ইয়গা করতে হবে না মেডিটেশন করতে হবে ?কিন্তু মহর্ষি পাতাঞ্জালি বলেছেন যে, “আগে আসনে বসেই তো মেডিটেশন করতে হয় তাই তো আগে আসন পরে প্রাণায়াম।
ইয়গা অর্থাৎ প্রাণায়াম, প্রাণের আয়াম বা বিস্তারকে বলা হয় প্রাণায়াম। অভ্যাসে প্রাণশক্তি অ জীবনীশক্তি বৃদ্ধি পায়।এই প্রাণায়ামের সাহায্যেই সাপ,ব্যাং প্রভৃতি প্রাণি শীতের তিন মাস খাদ্য না খেয়ে ঘুমিয়ে থাকে।প্রাণায়ামের সময় বায়ুর অক্সিজেন শরীরে যথেষ্ট প্রবেশ করে।এই জন্য সাধারারণ মানুষ সহজ কয়েকটি প্রাণায়াম অনুষ্ঠান করে রোগ প্রতিষেধক ক্ষমতা ও জীবনীশক্তি বর্ধিত করে নিতে পারে।এই সহজ প্রাণায়াম অনুষ্ঠানে কোন ত্রুটি থাকলেও কোন প্রকার অনিষ্ঠের ভয় নেই।
অপরপক্ষে মেডিটেশন অর্থাৎ ধ্যানাসন ‘স্থির সুখম আসনম’-স্থিরভাবে সুখে বসার নাম আসন।যেভাবে হোক বসা জায়।কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বসে পড়াশুনা করা, গবেষনা করা,অংক কষা,গভীরভাবে চিন্তা করার সময় এমন ভঙ্গীমায় বস্লে মস্তিকের উপর খুব বেশি চাপ পড়ার ভয় থাকবে না—এমন ভঙ্গীকে বলা হচ্ছে সুখে উপবেশন। এসব মেডিটেশন গুলি আমাদের শরীরের নানাবিধ উপকার করে ব্লে শরীর বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন। সকলের পক্ষে অভ্যাসের উপযোগী সাতটি ইয়গা ও সাতটি মেডিটেশন করা খুব উপযোগী।
হাজার হাজার বছর থেকে আমাদের প্রাচ্যে ধ্যানের চর্চ্চার অভ্যাস ছিল। এই ধ্যান করার পরই আমাদের মনের শান্তি বিরাজ করতো। বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকায় কোটি কোটি মানুষ ধ্যান চর্চ্চা নিয়মীত করছে। এমনকি অনেক হাসপাতালে ধ্যান করার জন্য আলাদা ইউনিট রয়েছে। আমাদের দেশে গত প্রায় ২০ বছর থেকে ধ্যানের অভ্যাস গড়ে উঠেছে। আমরা জানে মানুষ আজ নানান ধরনের চিন্তার জন্য মনো সংযোগের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আসলে ধ্যান করলে কি লাভ হয়
১. ধ্যান আমাদেরকে দেয় মনের শান্তি এবং মনকে সুখের অবস্হায় রাখে।
২. ধ্যান মনোযোগ করতে খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
৩. মনকে যদি নীরব করার কৌশলে নিয়ে আসতে পারি তবে নামাজরত অবস্হায় আমরা সহজেই মনো সংযোগ ঘঠাতে পারেবো।
৪. যারা দীর্ঘদিন যাবৎ রক্তচাপ,পুরাতন মাথাব্যথা,বিষণ্ণতা,মনোসংযোগে ঘাটতি, মানসিক অস্তিরতায় ভুগছেন তারা নিয়মীত একমাস মেডিটেশন করে দেখুন আপনার অবস্হার কত তাড়াতাড়ি পরিবর্তন হয়।
৫. যারা নিয়মীত মেডিটেসন করেন তাদের নেতিচিন্তা থেকে দূরে থাকেন। এছাড়া ও ধ্যানের অনেক ভালো দিক রয়েছে যা আমরা নিয়মীত চর্চ্চা করলে উন্নতি করতে পারি।
আমাদের এ শরীর চন্দ্র শক্তি ও সূর্য শক্তি দুয়ের সমন্বয়ে তৈরী।আমাদের জীবনে শক্তি,সাহস,বল এবং পরাক্রম এগুলি সূর্য শক্তি। আর শান্তি,সমার্পণ,শ্রদ্ধা,ধৈর্য এবং আত্মবিশ্বাস এগুলি চন্দ্র শক্তি।তাই ভোরে প্রাণায়াম করেন তখন চারি দিকে পাখির ডাক ,কেমন যেন অলৌকিক ভাব থাকে প্রকৃতিতে,এ সময় করলে পুরা লাভ আপনে পাবেন প্রাণায়ামের।আর প্রাণায়ামই তো শরীরের জন্য লাভদায়ক।আর আসন তো মাত্র সন্ধি ও স্পাইন এর রোগ থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করে। সাত আসন সাত প্রাণায়াম ও সাত সুখাসন।ভাস্তিকা,কপালভাতি,বাহি,অনুলোম –বিলোম,ভ্রামরী,উদগিতও প্রনবধ্যান এ সাত প্রাণায়াম।
The following two tabs change content below.
আসুন সবাই মিলে ইয়গা-মেডিটেশন করি,মন থেকে অশুভ সব মুছে ফেলে এ সুন্দর পৃথিবীটাকে ভালবাসাই আরও সুন্দর করে তুলি
About ইয়গা সঞ্জিতা(Yoga Sanjita)

আসুন সবাই মিলে ইয়গা-মেডিটেশন করি,মন থেকে অশুভ সব মুছে ফেলে এ সুন্দর পৃথিবীটাকে ভালবাসাই আরও সুন্দর করে তুলি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

* Copy This Password *

* Type Or Paste Password Here *

154 Spam Comments Blocked so far by Spam Free Wordpress